মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ইরানের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ব্যারেলপ্রতি ১২ ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর প্রভাব সরাসরি পড়বে বাংলাদেশের বাজারে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ বহন করে। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ প্রায় সম্পূর্ণ তেলই আমদানি করে। ফলে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের দাম আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লিটারপ্রতি ১০-১৫ টাকা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে দেশের ভেতরেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি জানিয়েছে, তাদের হাতে মাত্র ৩-৪ দিনের মজুত আছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, তারা বিকল্প রুট খুঁজছে। তবে মালাক্কা প্রণালী বা সুয়েজ খাল দিয়ে তেল আনতে বেশি সময় ও খরচ হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, এখনই সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে ভর্তুকি কমানো ছাড়া উপায় থাকবে না। এদিকে কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকরা আগামীকাল আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, জ্বালানি তেলের দাম যেন কোনোভাবেই না বাড়ানো হয়। আগামী ৭২ ঘণ্টা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
TAGS-হরমুজ প্রণালী, পেট্রোলের দাম বাংলাদেশ, জ্বালানি সংকট ২০২৬, বিশ্ব অর্থনীতি, ভোক্তা অধিকার