ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত এখন একেবারে তুঙ্গে। ইরান যুদ্ধ এর ৩৯তম দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৮টা ইস্টার্ন টাইমের মধ্যে ইরানকে স্ট্রেইট অফ হরমুজ খুলে দিতে হবে। না হলে দেশের সবকটি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ব্রিজ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “পুরো সভ্যতাই আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে” – এমন হুমকি দিয়ে তিনি বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। এই হুমকি কোনো সাধারণ কথা নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
ঘটনার পটভূমি দেখলে বোঝা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ অভিযানে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। ইরান প্রতিবাদ স্বরূপ স্ট্রেইট অফ হরমুজ বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বের তেল সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি পথ। ফলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা এক রাতেই সবকিছু শেষ করে দিতে পারি।” তিনি আরও জানিয়েছেন যে দুই মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারের অভিযান সফল হয়েছে, যা তাঁর প্রশাসনের জন্য বড় জয়। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চায় না; চায় স্থায়ী সমাধান এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন। চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলো ট্রাম্পের হুমকিকে “অযৌক্তিক” বলে সমালোচনা করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কিছু আলোচনা চলছে, কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা কখনোই হুমকির কাছে মাথা নত করব না।” বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই সংকট আমাদের রেমিট্যান্স এবং আমদানি ব্যয়কে প্রভাবিত করবে। জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি হলে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে চাপ পড়বে।
বিস্তারিত আলোচনা করলে দেখা যায়, স্ট্রেইট অফ হরমুজ বন্ধ থাকায় কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের এলএনজি ও তেলের রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। ফলে এশিয়ার দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ট্রাম্পের হুমকির পর তেলের দাম আরও ৫ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যুবকদের পাওয়ার প্ল্যান্টের চারপাশে মানব ঢাল তৈরি করতে বলেছে। এটি একটি মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তির খেলা কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে। ট্রাম্পের এই অবস্থান তাঁর “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতিরই প্রতিফলন, কিন্তু এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত এখনই বিকল্প জ্বালানি সোর্স খুঁজে বের করা।
TAGS-আন্তর্জাতিকসংবাদ, বিশ্বসংবাদ, ব্রেকিংনিউজ, ট্রেন্ডিংনিউজ, আপডেটনিউজ, বাংলানিউজ, বাংলাসংবাদ, আন্তর্জাতিকখবর, বিশ্বডেস্ক, সংবাদপাঠ,ইরান যুদ্ধ ২০২৬, ট্রাম্প ইরান হুমকি, হরমুজ প্রণালি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান, বিশ্ব তেল সংকট, ইরান পারমাণবিক উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ, বিশ্ব জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক সংবাদ