ইউরোপীয় রাজনীতিতে এক ভূমিকম্পের মতো ঘটনা ঘটেছে গত রবিবার। হাঙ্গেরির সংসদীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান তার দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের ইতি টেনে পরাজয় স্বীকার করলেন। বিরোধীদলীয় নেতা পিটার ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিশা পার্টি পার্লামেন্টের ১৯৯টি আসনের মধ্যে প্রায় ১৩৮টি আসন পেয়ে বিপুল বিজয় অর্জন করেছে।
প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ নিয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন হাঙ্গেরির কমিউনিজম-পরবর্তী ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড গড়েছে। অরবানের দল ফিডেশ মাত্র ৫৭টি আসন পেয়েছে। অরবান পরাজয় মেনে নিয়ে বলেছেন, 'এই নির্বাচনের ফলাফল আমাদের জন্য কষ্টের, কিন্তু পরিষ্কার।' তিনি বিরোধী আসন থেকেও দেশ ও জাতির সেবা করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইউরোপিয়ান কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লাইয়েন বিজয়ীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, 'হাঙ্গেরি ইউরোপকে বেছে নিয়েছে।' প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই বিজয়কে 'গণতন্ত্রের জয়' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে অরবানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই পরিবর্তনের গভীর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। অরবানের ইউক্রেন-বিরোধী অবস্থানের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্যাকেজ আটকে ছিল। নতুন সরকার এই ভেটো তুলে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।
TAGS- হাঙ্গেরি নির্বাচন ২০২৬ Viktor Orban election defeat Peter Magyar Tisza party victory ভিক্টর অরবান পরাজয় ইউরোপ রাজনীতি ২০২৬ হাঙ্গেরি ইইউ সম্পর্ক পপুলিজম পরাজয় ইউরোপ