ইতিহাস বদলের দিনে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-লেবানন সরাসরি আলোচনা: ৩০ বছর পর প্রথম

 


গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো বিশ্ব।ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনা শিরোনামে প্রায় তিন দশক পর দুই দেশের কূটনীতিকরা মুখোমুখি বসলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে। আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র মধ্যস্থতায় পরিচালিত এই বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, উভয় পক্ষ পারস্পরিক সম্মতিতে একটি নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছে। বৈঠকটি ছিল ১৯৯৩ সালের পর প্রথম কোনো ইসরায়েল-লেবানন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই আলোচনায় ইসরায়েলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার এবং লেবাননের পক্ষে রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে মোয়াদ। লেবানন সরকার পূর্ণ যুদ্ধবিরতি এবং বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা।


আলোচনায় মার্কিন পক্ষ থেকে ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে যে এই আলোচনা কেবল যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দুটি দেশের মধ্যে পূর্ণ শান্তি চুক্তি ও স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের পথ খুলে দেবে। রুবিও এটিকে কেবল 'শুরু' বলে উল্লেখ করেছেন। তবে হিজবুল্লাহ এই আলোচনাকে 'অর্থহীন' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং লেবানন সরকারকে বৈঠক থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
বিগত ছয় সপ্তাহের সংঘাতে লেবাননে প্রায় ২,১২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ১১ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হয়েছেন বলে লেবানিজ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই বাস্তবতায় কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

TAGS- ইসরায়েল লেবানন আলোচনা ২০২৬ Israel Lebanon peace talks 2026 মার্কো রুবিও মধ্যস্থতা হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া ওয়াশিংটন কূটনীতি আন্তর্জাতিক সংবাদ আজকের

নবীনতর পূর্বতন