নড়াইলে সাড়ে সাত হাজার লিটারের বেশি ডিজেল জব্দ: চোরাচালান ও অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান

 

নড়াইল জেলায় জ্বালানি তেল বিশেষ করে ডিজেলের অবৈধ মজুত ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অভিযান চালিয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলায় পৃথক অভিযানে মোট ৭ হাজার ৭৫০ লিটারের বেশি ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রথমে একটি স্থান থেকে ৭ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে লোহাগড়া উপজেলায় আরও কয়েকশ লিটার অবৈধ ডিজেল উদ্ধার হয়। জব্দকৃত ডিজেলগুলো স্থানীয় ফিলিং স্টেশনে নিরাপদে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট চলমান সময়ে এ ধরনের অবৈধ মজুত ও চোরাচালান বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অনেক জেলায় পেট্রোল পাম্পে লাইন পড়ছে এবং কিছু জায়গায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ডিজেল মজুত করে কালোবাজারি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নড়াইলের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন পাম্পে ডিজেলের সরবরাহ কমে গেছে। অনেক ট্রাকচালক ও কৃষক ডিজেল না পেয়ে সমস্যায় পড়ছেন। ঠিক এমন সময়ে অবৈধভাবে বড় পরিমাণ ডিজেল মজুত রাখার ঘটনা সামনে আসায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন বলছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং চোরাচালান বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।

এর আগে নড়াইলে একটি পেট্রোল পাম্পে ডিজেল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ট্রাকচালকের ধাক্কায় পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সরদার নিহত হন। ওই ঘটনায় পাম্প মালিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছিলেন। RAB পরে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এসব ঘটনা একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায় যে জ্বালানি সংকট কেবল সরবরাহের সমস্যা নয়, এর সঙ্গে অবৈধ বাণিজ্য ও সামাজিক অস্থিরতাও জড়িত।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুত যথেষ্ট আছে। তবে
ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে আমদানি খরচ বাড়বে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ পড়তে পারে। সরকার ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।নড়াইলের ঘটনায় জব্দকৃত ডিজেলের বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা। প্রশাসনের অভিযানে যারা জড়িত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে চোরাচালান কমবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য দামে জ্বালানি পাবেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য শুধু অভিযান নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং আমদানিনির্ভরতা কমানো জরুরি। সরকারও এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে স্বল্পমেয়াদে চোরাচালান ও অবৈধ মজুত বন্ধ করতে প্রশাসনের সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।

এই ঘটনা শুধু নড়াইল নয়, সারাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা। জ্বালানি তেলের যেকোনো অপচয় বা অবৈধ বাণিজ্য দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে। সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সচেতন হতে হবে যাতে কেউ এ সংকটের সুযোগ নিতে না পারে।

TAGS_-  #নড়াইলডিজেলজব্দ # ডিজেলচোরাচালান #জ্বালানিতেলজব্দ #বাংলাদেশজ্বালানিসংকট #অবৈধমজুত #নড়াইলখবর #প্রশাসনঅভিযান #ইরানযুদ্ধপ্রভাব

নবীনতর পূর্বতন