বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চায় ভারত: জ্বালানি সহায়তা ও কূটনৈতিক উষ্ণতা বাড়ছে

 

বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে ভারত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চলমান ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ জ্বালানি সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ করেছে ঢাকা। ভারতও ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দিয়ে প্রায় ৫,০০০ টন ডিজেল সরবরাহ করেছে এবং আরও সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে প্রতিবেশী প্রথম নীতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে। ভারতের রাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং লোকসভায় বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, অতীতের টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশ এখন বাস্তবসম্মত ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাইছে। ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে ভারত আগ্রহী। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নতুন ধারা শুরু হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ প্রতি বছর ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করে। সাম্প্রতিক অনুরোধে আরও ৫০ হাজার টনের মতো অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়া হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে সংকট দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় ভারতের সহায়তা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

অন্যদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা চলছে। ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আবার চালু করা হবে এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে। অতীতে রাজনৈতিক কারণে কিছু অসুবিধা তৈরি হয়েছিল। এখন দুই দেশই বাস্তবতা বুঝে এগোচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে জ্বালানি, বাণিজ্য ও কানেক্টিভিটি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ বাড়লে উভয় দেশেরই লাভ হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই উষ্ণতা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে আশা করছেন, দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হলে বাণিজ্য বাড়বে, চাকরি তৈরি হবে এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে কিছু রাজনৈতিক মহল এখনও সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মানুষকেন্দ্রিক ও পারস্পরিক উপকারভিত্তিক হবে। উভয় দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠক অব্যাহত রাখা হবে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
ইরান যুদ্ধের মতো আঞ্চলিক সংকটের সময় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকারও এ বিষয়ে সক্রিয় রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই ঘটনা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। যদি বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শান্তি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

TAG- #বাংলাদেশভারতসম্পর্ক #নতুনসরকার #ভারতজ্বালানিসহায়তা #কূটনীতি #ইরানযুদ্ধপ্রভাব #বাংলাদেশভারতডিজেল #তারেকরহমান #ভারতবাংলাদেশরিসেট

নবীনতর পূর্বতন