আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম ভারী বৃষ্টি ও তার ফলে সৃষ্ট বন্যা এবং ভূমিধসে অন্তত ৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুই দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এই ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন এবং শত শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDMA) জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে দেশের কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পারওয়ান, মাইদান ওয়ার্দাক, দায়কুন্দি, লোগার এবং কান্দাহারসহ অন্তত ১৩টি প্রদেশে ফ্ল্যাশ ফ্লাড ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এতে ২২ থেকে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শতাধিক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেও একই ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বুধবার থেকে চলা ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে ঘরের ছাদ ও দেওয়াল ধসে পড়ে মানুষ আটকা পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই বৃষ্টি অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। বিশেষ করে আফগানিস্তানের পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে, কৃষিজমি নষ্ট হয়েছে এবং পানির সেচ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান উভয় দেশই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গত কয়েক বছরে এ ধরনের ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও খরার ঘটনা বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ আরও ঘনঘন ও তীব্র হতে পারে।
আফগানিস্তান বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। এমন সময়ে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটির মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ত্রাণ সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও এটি একটি সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে।
এখনও অনেক এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে। কর্তৃপক্ষগুলো জনগণকে নিচু এলাকা থেকে সরে যাওয়ার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের সহানুভূতি রইল। আশা করা যায়, দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
TAG-#আফগানবন্যা #পাকিস্তানবন্যা #জলবায়ুপরিবর্তন #আফগানিস্তানবন্যা২০২৬ #দক্ষিণএশিয়াসংকট #বন্যাদুর্ঘটনা #জলবায়ুসংকট #আন্তর্জাতিকদুর্যোগ #আফগানিস্তানদুর্যোগ #পাকিস্তানভারীবৃষ্টি