দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৬টি জেলায় হামলার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৯ দিনে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯৪ জন শিশু মারা গেছে । স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) জানিয়েছে, এই সময়ে সন্দেহভাজন হামলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৯২ জনে । শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন শিশু মারা গেছে এবং ৯৭৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি রাজশাহী বিভাগে। সেখানে নজরদারি ও রোগ শনাক্তকরণ বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, যা পরে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ।
বর্তমান সরকার দায়ী করছে ভারপ্রাপ্ত সরকারের ব্যর্থতাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, "আপনি একে ব্যর্থতা বা অবহেলা বলতে পারেন। গত বছর টিকা দেওয়ার কর্মসূচিতে ঘাটতি ছিল" । বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রথম হামলার রোগী শনাক্ত হয়েছিল গত ৪ জানুয়ারি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, কিন্তু যথাসময়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে হামলার টিকা প্রদানের হার ছিল ৯৬ শতাংশের বেশি। কিন্তু ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষার অভাবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। জাতীয় হামলা-রুবেলা নির্মূল কমিটির প্রধান মাহবুবুর রহমান জানান, "২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হামলাজনিত মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যর্থ হয়েছে দুর্বল টিকা কর্মসূচির কারণে" ।
TAGS-হামলা প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশ, শিশু মৃত্যু, হামলার টিকা, স্বাস্থ্য সংকট, টিকা ব্যবধান, DGHS