নাসার আর্টেমিস-২ মিশন সফলভাবে শেষ হয়েছে। চারজন সাহসী নভোচারী চাঁদের চারপাশ ঘুরে এসে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্যাসিফিক মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেছেন। এটি ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর প্রথমবার মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠানোর ঐতিহাসিক ঘটনা।
মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন অরিয়ন স্পেসক্রাফটে করে প্রায় ১০ দিনের যাত্রা শেষ করেছেন। আর্টেমিস প্রোগ্রাম এই প্রথম ক্রুযুক্ত টেস্ট ফ্লাইটে তারা চাঁদের দূরবর্তী অংশ দেখেছেন, পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে গিয়েছেন এবং মহাকাশে মানুষের ভবিষ্যৎ যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
অরিয়ন ক্যাপসুলটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় প্রায় ২৫,০০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে ছুটে আসে। তাপমাত্রা সূর্যের অর্ধেকের কাছাকাছি পৌঁছায়, কিন্তু তাপ ঢাল সবকিছু সামলে নেয়। প্যারাশুট খুলে ধীরে ধীরে ক্যাপসুলটি সান দিয়েগো উপকূলের কাছে পানিতে নামে। উদ্ধারকারী দল তাদের দ্রুত তুলে নেয় এবং চিকিৎসা পরীক্ষা শুরু করে।নভোচারীরা মিশন চলাকালীন চাঁদের ফার সাইড দেখে অবাক হয়েছেন। তারা পৃথিবীকে ছোট্ট নীল বলের মতো দেখেছেন এবং সূর্যগ্রহণের দৃশ্য উপভোগ করেছেন। ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, “এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল। আমরা যা দেখেছি তা শব্দে বোঝানো যায় না।” এই মিশন আর্টেমিস-৩ এর পথ প্রশস্ত করেছে, যেখানে মানুষ আবার চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।
নাসা বলছে, আর্টেমিস-২ মিশনের সাফল্য মানুষকে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী বসতি স্থাপন এবং একদিন মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার স্বপ্নকে আরও কাছে নিয়ে এসেছে। বিজ্ঞানীরা এখন অরিয়নের সিস্টেম, লাইফ সাপোর্ট এবং নেভিগেশন ডেটা বিশ্লেষণ করবেন।
এই অভিযান শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, কানাডা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও গর্বের বিষয়। বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ লাইভ স্ট্রিমিংয়ে স্প্ল্যাশডাউন দেখেছেন এবং নভোচারীদের সাহসী যাত্রায় অংশীদার হয়েছেন।
আর্টেমিস প্রোগ্রাম এখন নতুন যুগের শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ চাঁদে যাবে, বিজ্ঞান চর্চা করবে এবং মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
TAGS- artemis 2 mission, nasa artemis ii, artemis 2 splashdown, moon mission 2026, orion spacecraft return, artemis program, human spaceflight, nasa moon mission, christina koch, reid wiseman