ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতিতে বড় পরিবর্তন: চীন ছাড়া অন্য দেশগুলোর উপর বাড়তি শুল্ক স্থগিত

 


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। চীনের উপর উচ্চ হারে শুল্ক বজায় রেখে অন্যান্য দেশগুলোর উপর পরিকল্পিত বাড়তি শুল্ক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাণিজ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত বছরের ‘লিবারেশন ডে’তে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর দেশভিত্তিক
রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করেছিলেন। চীনের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু বাজারে অস্থিরতা এবং অনেক দেশের আলোচনার অনুরোধের পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, চীন ছাড়া বাকি দেশগুলোর উপর বাড়তি শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। এ সময়ে শুধু ১০ শতাংশের বেসলাইন ট্যারিফ কার্যকর থাকবে।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন, “অনেক দেশ আমার সাথে যোগাযোগ করেছে এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। তাই আমি তাদের জন্য সময় দিতে চাই। কিন্তু চীনের সাথে ব্যাপারটা আলাদা। তারা আমাদের সাথে ন্যায্য বাণিজ্য করছে না।”

চীন ট্যারিফ নিয়ে এখনও উচ্চ হার বজায় রাখা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের তীব্রতা কমেনি। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারতসহ অনেক দেশ এই স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা আনবে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাবে।”
বিশ্ববাজারে এই ঘোষণার পর স্টক মার্কেটে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক কোম্পানি যারা চীনের বাইরে উৎপাদন স্থানান্তর করছিল, তারা এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন যে, ৯০ দিন পর আবার শুল্ক বাড়ানো হতে পারে যদি আলোচনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি না হয়।


ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি নিয়ে বিতর্কও চলছে। কেউ বলছেন এটা আমেরিকান শ্রমিকদের সুরক্ষা দিচ্ছে, আবার কেউ বলছেন এতে ভোক্তাদের দাম বাড়ছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ এখন আশা করছে যে, নতুন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে তাদের রপ্তানি আরও সহজ হবে।
এখন দেখার বিষয়, আগামী তিন মাসে কোন দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে কার্যকর চুক্তি করতে পারে এবং
চীন ট্যারিফ নিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা।

TAGS-ট্রাম্পট্যারিফ, চীনট্যারিফ, বিশ্ববাণিজ্য, ট্রাম্পবাণিজ্যনীতি, যুক্তরাষ্ট্রশুল্ক, ট্রাম্পপলিসি,আন্তর্জাতিকসংবাদ, বিশ্বসংবাদ, ব্রেকিংনিউজ, ট্রেন্ডিংনিউজ, আপডেটনিউজ, বাংলানিউজ, বাংলাসংবাদ, আন্তর্জাতিকখবর, বিশ্বডেস্ক, সংবাদপাঠ

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম